দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ব্যাংক হিসাব খোলা, ঋণ নেওয়া কিংবা ফেসবুক থেকে আয় করার জন্য অনেকেই ই-টিন সার্টিফিকেট নিয়েছেন। তবে পরবর্তী সময়ে আয় বন্ধ হয়ে গেলেও বা করযোগ্য আয় না থাকলেও তাঁদের আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে টিন সার্টিফিকেট নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অনেকে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে টিন বাতিলের আবেদন করা যায়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে।
টিন বা করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাতিলের আবেদন করার আগে এর প্রয়োজনীয়তা ও নিজের করসংক্রান্ত দায় যাচাই করা জরুরি। শুধু আয় করযোগ্য সীমার নিচে নেমে গেলেই টিআইএন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না। একইভাবে, আয় বন্ধ হয়ে গেলেও আগের করসংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা শেষ হয়ে যায় না।
কোন পরিস্থিতিতে টিন বাতিলের আবেদন করা যায়?
ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেলে, ভুল করে একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক টিআইএন তৈরি হলে কিংবা যে প্রয়োজনে টিআইএন নেওয়া হয়েছিল, তা আর না থাকলে বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে। এ ছাড়া করযোগ্য আয় না থাকা বা দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থানের মতো পরিস্থিতিতেও নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে। কোনো করদাতার মৃত্যু হলে তাঁর টিআইএন বাতিলের জন্য উত্তরাধিকারীরা আবেদন করতে পারেন। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা বা অন্যান্য করসংক্রান্ত দায় থাকলে তা আগে যাচাই করতে হবে।
কোথায় আবেদন করবেন?
টিন সার্টিফিকেটে উল্লেখ করা সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চল ও কর সার্কেল কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে। সাধারণত সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদনে টিআইএন খোলার সময়, যে কারণে এটি নেওয়া হয়েছিল এবং বর্তমানে কেন বাতিল করতে চান, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
আবেদনের সঙ্গে যেসব কাগজপত্র লাগতে পারে
আবেদনের সঙ্গে ই-টিন সার্টিফিকেটের অনুলিপি, জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি এবং বাতিলের কারণের পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র জমা দিতে হতে পারে। ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে তার প্রমাণ এবং করদাতার মৃত্যু হলে মৃত্যুসনদ প্রয়োজন হতে পারে। আবেদনকারীর করসংক্রান্ত অবস্থা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর কার্যালয় অতিরিক্ত কাগজপত্র চাইতে পারে।
আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার বিষয়টি কী হবে?
টিআইএন বাতিলের আগে আগের বছরের আয়কর রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর কার্যালয় থেকে জেনে নেওয়া উচিত। পরপর তিন বছর শূন্য আয়কর রিটার্ন জমা দিলেই টিআইএন বাতিল হবে—এমন কোনো সাধারণ নিয়ম ধরে নেওয়া ঠিক নয়। এ ক্ষেত্রে করদাতার পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আবেদন জমা দেওয়ার পর কর কর্তৃপক্ষ কাগজপত্র ও কারণ যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেবে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া টিআইএন বাতিল হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না। তাই আবেদন করার পর বাতিলের সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
টিআইএন বাতিলের শর্ত, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও করসংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওয়েবসাইট বা সংশ্লিষ্ট কর কার্যালয়ে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
এমএম/